আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এর পটভূমি, মোট আসামী সংখ্যা ও নিষ্পত্তি

“আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা” এর পটভূমি, মোট আসামী সংখ্যা ও নিষ্পত্তি

শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সহযোগিরা ভারতের আগরতলায় গোপন বৈঠকে বসে ভারত সরকারের সহজগিতায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্র করছিলো। এই মিথ্যা মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা তৈরি করা হয়। ১৯৬৮ সালে করা এই মামলাটি ভারতের আগরতলায় করা হয়। ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা শহরে ভারতীয় পক্ষ ও আসামি পক্ষদের মধ্যে এ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ থাকায় একে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলা হয়।


আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৩৫ জন আসামির তালিকা দেওয়া হলঃ

১. শেখ মুজিবুর রহমান,
২. মোয়াজ্জেম হোসেন
৩. মুজিবুর রহমান
৪. সুলতানউদ্দীন আহমদ
৫. নূর মোহাম্মদ
৬. আহমদ ফজলুর রহমান
৭. মফিজউল্লাহ
৮. এ বি এম আবদুস সামাদ
৯. দলিল উদ্দীন
১০. রুহুল কুদ্দুস
১১. মো. ফজলুল হক
১২. ভূপতি ভূষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী
১৩. বিধান কৃষ্ণ সেন
১৪. আবদুর রাজ্জাক
১৫. মুজিবুর রহমান
১৬. মো. আবদুর রাজ্জাক
১৭. জহরুল হক
১৮. মোহাম্মদ খুরশিদ
১৯. শামসুর রহমান খান
২০. এ কে এম শামসুল হক
২১. আজিজুল হক
২২. মাহফুজুল বারী
২৩. শামসুল হক
২৪. শামসুল আলম
২৫. মো. আবদুল মুত্তালিব
২৬. এম শওকত আলী
২৭. খন্দকার নাজমুল হুদা
২৮. এ এন এম নূরুজ্জামান
২৯. আবদুল জলিল
৩০. মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী
৩১. এস এম এস রহমান
৩২. এ কে এম তাজুল ইসলাম
৩৩. মোহাম্মদ আলী রেজা
৩৪. খুরশিদ উদ্দীন আহমদ
৩৫. আবদুর রউফ

মামলার নিষ্পত্তি

মিথ্যে এই মামলার বিপরীতে বাংলার মানুষ তিব্র আন্দোলন গড়ে তোলে, এই গণ-আন্দোলনের কাছে তখন আইয়ুব খানের সরকার পিছু হটতে শুরু করে এবং উনসত্তরের গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবুর রহমান-সহ অন্যান্যদের মুক্তির দাবি করেছিল। পরে পাকিস্থান সরকার তাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয়। সাথে সাথে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল কারাবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়। এভাবেই উক্ত মামলার সমাপ্তি ঘটে।

আরও পড়ুনঃ লাল নীল দীপাবলি বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রশ্নোত্তর

শেয়ার করুন

Leave a Reply